ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
ব্রেকিং নিউজ

রোকাইয়া জান্নাত

১৪ জুলাই ২০২১, ২৩:০৭

সে | রোকাইয়া জান্নাত

19276_বাতি.jpg
ছবি: সংগৃহীত
‘কে? কে গেলো ওদিক দিয়ে? পেছনে তাকাও!’ পরক্ষনেই মনে হলো বাসায় তো কেউ নেই। মাঝরাতে হঠাৎ এক অজানা আতঙ্কে বুকের ভিতর শিউরে উঠলো। লুকিয়ে পড়লাম  দরজার আড়ালে। অদ্ভুত ফিসফিস শব্দ গুলো যেন ঘুণপোকার মত ছিঁড়ে খাচ্ছে আমার মাথার ভেতরটা। সম্মোহিতের মতো নিজের অজান্তেই এগিয়ে গেলাম তার পেছনে।

কিন্তু একি! এ যে সাক্ষাৎ নরক! সমগ্র শরীর লালবর্ণ তার। আমি বাজি ধরে বলতে পারি, তার চোখের মতো ভয়ঙ্কর আগুনের গোলা পৃথিবীতে আর কিচ্ছু নেই! তার হাতে ছিলো এক বালতি গরম পানি। ফিসফিস শব্দ গুলো এখনো চলছে, কিন্তু সেই শব্দের উৎস এখনো ঠাওর করতে পারিনি। যেনো কোনো হুমকি দিচ্ছে আমায়, তবু বুঝতে পারছিনা ভাষাগুলো। দেখলাম, সে ওই গরম পানি নিজের শরীরে ঢেলে দিলো। অতঃপর সে শরীর যেন আরো জ্বলন্ত হয়ে উঠল। চামড়া, মাংস সব ধীরে ধীরে গলে যেতে লাগলো। পরক্ষণেই প্রকাণ্ড এক গাছের গুড়ি কয়লা হয়ে জ্বলতে থাকলে যেমন দেখায়, তেমন রূপ ধারণ করল তার শরীর। দুনিয়ার বুকে এর থেকে নারকীয় কিছু হতে পারে না, কিচ্ছু না!
 
প্রচন্ড শ্বাসকষ্টে ঘুম ভেঙে গেল আমার। যেন বুকের উপরে ভারী কিছু একটা চেপেছিল। ধড়ফড়িয়ে উঠে বসলাম।
 
আমার পরিচয় টা দেওয়া হয়নি। আমি রোকাইয়া, আর এ ছিলো আমার একরাতের স্বপ্নের একাংশ। শুরুটা কোথায় ছিলো মনে করতে পারি না, আর এই অভিশপ্ত জীবনের শেষটা কোথায় তাও জানি না। এবার গল্পের অন্য পরিধির দিকে যাওয়া যাক।
 
আমি ছোটবেলা থেকেই একা আর নিজের মতো থাকতে ভালোবাসি। বই পড়ি, সাজগোজ করি, আমার হোম গার্ডেনের যত্ন নিই, রান্না করি, ফটোগ্রাফি করি। কিন্তু আমার ব্যক্তিগত সময়গুলোতে কেউ বিরক্ত করলে তার ওপর খুব রাগ হয়, ইচ্ছে করে খেয়ে ফেলতে তাকে!
 
সেদিন সন্ধ্যায় আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চোখে কাজল দিচ্ছিলাম। মন খারাপ থাকলে কাজল পড়তে খুব ভালো লাগে, কাঁদলে চোখ গুলো তখন কতই না সুন্দর লাগে আমার! আমি বুঝতে পারি, অন্ধকার ঘরের ভেতরে আয়নায় আমার মুখটি ছাড়া আর কিছুই দেখা যায় না কোথাও। তবু ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় বলছিলো, আমি ছাড়াও অন্য কেউ আছে এখানে! আয়নাটিকে পানির স্তর এর মত স্বচ্ছ মনে হয়। কেমন যেন আবেশী হয়ে নিজের প্রতিবিম্বের হাত ছুঁয়ে দাঁড়িয়ে থাকি আমি। উফফ...কে যেনো কলিং বেল বাজালো! কয়েক সেকেন্ডের জন্য খেয়াল হলো, আয়নায় আমার পুরো চোখটা কালো আঁধারে ছেয়ে গেছে। মণিটা আরো কালো হয়ে বিস্তৃত করে ফেলেছে সাদা অক্ষিগোলককে। তারপর আর কিছু মনে নেই।
 
জ্ঞান ফিরতে দেখলাম অন্ধকার বাথরুমের ফ্লোরে আমি পড়ে আছি। উঠে রুমে ফিরে ঘড়ি দেখলাম। রাত তখন দেড়টা। প্রায় ছয় ঘন্টার মধ্যে কি হয়েছে তা মনে করার চেষ্টা করলাম। মাথাটা এখনো খুব ভারী হয়ে আছে। গা ভেজা। সন্ধ্যায় তো সেলেনা আন্টির কাজ করতে আসার কথা ছিল। উনি কি আদৌ আসেননি? এগিয়ে খুঁজতে যাব বাসার ভেতরে, সেই সময় কিছু একটায় হোঁচট খেলাম। একটা আধ খুবলিয়ে খাওয়া কাটা পা পড়ে আছে মেঝেতে! মানুষের পা! কেউ ছিন্ন ভিন্ন করে খেয়ে পায়ের পাতা টুকু ফেলে রেখেছে। সেই পরিস্থিতি দেখে ভয়, আতঙ্ক, বিস্ময়, কোনো অনুভূতিই বোঝানোর ভাষা আমার কাছে নেই। পুরো মেঝে ছোপ ছোপ রক্তে মাখামাখি। বড় চাকুটা তখনো পড়ে ছিলো বাথরুমের দরজার সামনে। হঠাৎ চোখ গেলো আয়নার দিকে! এগিয়ে গেলাম নিজের প্রতিবিম্বের কাছে। ঠোঁটের কোণে এক চিলতে হাসি ফুটে উঠল। পড়ে থাকা অবশিষ্ট পাটা তুলে নিয়ে কমোডে ফ্লাশ করে দিলাম। এখন ঘুমোবো আমি, শান্তির ঘুম। সকালে উঠে বারান্দাটাও পরিষ্কার করতে হবে। টবের মাটিতে একটু একটু রক্ত হয়তোবা এখনো লেগে আছে।
 
মানবদেহ থেকে অনেক ভালো হিউমাস পায় আমার গাছগুলো। আজ গাছেরও খাবার জুটলো আর তারও মন ভালো হয়ে গেলো। আজ আবার তাকে স্বপ্নে দেখবো আমি। নিশ্চয়ই খুব খুশি আজ সে!
মুখে প্রশান্তির রেশ নিয়ে ঘুমিয়ে গেলাম আমি। ঘুমোতে হবে আমাকে! গভীর ঘুম!
 
আজ এই অব্দিই। ভাল থাকবেন সবাই। তাকে নিয়ে বাকি গল্পও শোনাবো। তবে আরেকদিন!