ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
ব্রেকিং নিউজ

১৬ অক্টোবর ২০২১, ০৬:১০

বাসযাত্রীদের জন্য নামাজের সুযোগ

একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ

21263_M.jpg
“নামাজ’ প্রত্যেক মুসলমানের জন্য দৈনন্দিন ও অত্যাবশ্যকীয় ইবাদাত। আমাদের দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ ইসলাম ধর্মবলম্বী হওয়ায় দেশের ট্রেন ও লঞ্চগুলোতে অজুর ব্যবস্থাসহ নামাজের জন্য পৃথক স্থান নির্ধারিত থাকলেও বাসযাত্রীদের জন্য সে ধরনের কোন সুযোগ এতদিন ছিল না। কিন্তু সম্প্রতি কিং ফিশার নামের একটি পরিবহন কোম্পানী দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও ধর্মীয় বিশ^াসের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যাত্রীদের নামাজের সুযোগ দিয়েছে। যা খুবই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। 
নামাজ ইসলামের পাঁচটি রোকন বা স্তম্ভের মধ্যে দ্বিতীয় তথা অন্যতম স্তম্ভ। পবিত্র কালামে পাকের ৮২ স্থানে নামাজ কায়েমের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। ইবনে ওমর (রা.) বলেন, আমি রাসুল (সা.)কে বলতে শুনেছি ইসলামের মূল ভিত্তি পাঁচটি। যথা, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ এর সাক্ষ্য প্রদান করা, সালাত বা নামাজ কায়েম করা, যাকাত আদায় করা, রমজান মাসের রোজা পালন করা এবং সামর্থ থাকলে হজ্বব্রত পালন করা।  (সহিহ মুসলিম; কিতাবুল ইমান) অপর হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, দ্বীনের মূল বিষয় হলো ইসলাম এবং মূল স্তম্ভ হলো নামাজ...। (সহিহ মুসলিম, তিরমিযী, মুসনাদে আহমাদ) নামাজ প্রাপ্তবয়স্ক ও বুদ্ধি-জ্ঞান সম্পন্ন, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রত্যেক মুসলামনের জন্য ফরজ বা অবশ্যকরণীয়। হাদিসে রাসূল (সা.) যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে নামাজ ছেড়ে দিল সে কুফরী করলো। তাই কোন মুসলমানের পক্ষেই নামাজ ছেড়ে দেয়ার কোন সুযোগ নেই।
আল্লাহ তায়ালার এই অত্যাবশ্যকীয় বিধান পালন নিশ্চিত করার জন্য সম্প্রতি বাসভ্রমণে যাত্রীদের ওয়াক্তমতো নামাজ আদায়ের সুবিধা নিশ্চিতের ঘোষণা দিয়েছে দেশের একটি পরিবহন কোম্পানি। শুধু তাই নয়, বাধ্যতামূলক করা হয়েছে বাসচালক, সুপারভাইজার ও হেলপারদের জন্যও। সম্প্রতি এমন আদেশ দিয়ে নোটিশ জারি করেছে কিং ফিশার ট্রাভেলস নামের একটি পরিবহণ সংস্থা। যা শুধু প্রশংনীয় উদ্যোগ নয় বরং সড়ক পরিবহনে শুভ সূচনা।
কিং ফিশার ট্রাভেলস সূত্র জানা গেছে, ঢাকা-খুলনা-পাইকগাছা ও সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগরে নিয়মিত চলাচল করছে কিং ফিশারের ১১টি বাস। অনেক যাত্রী রয়েছেন যারা দিনের পর দিন এ পরিবহনে যাতায়াত করেন। অনেক সময় পথে নামাজের সময় হলে তারা নামাজ আদায় করতে পারেন না। বিষয়টি কর্তৃপক্ষের গোচরে আনা হয়। আর সে পরিপ্রেক্ষিতেই পথে যাত্রীদের নামাজ আদায়ের সময় দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এক নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাসযাত্রীদের নামাজ আদায়ের সময় দিতে যাত্রাবিরতি বাধ্যতামূলক। এ সময় বাসের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও নামাজ আদায় করতে হবে। কিং ফিশার ট্রাভেলসের এক কর্তকর্তা বলেছেন, আমাদের সবাইকে সময়মতো নামাজ আদায় করতে হয়। বাস যখন রাস্তায় থাকে তখন নামাজের সময় হলে নিকটবর্তী কোনো মসজিদে নামাজের জন্য বিরতি দেয়া হয়। নামাজের বিরতির আগে যাত্রীদের তা জানিয়ে দেয়া হয়।
কিং ফিশার ট্রাভেলসের জেনারেল ম্যানেজার জানিয়েছেন, যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে ছয় মাস আগে যশোর কার্যালয়ে একটি বৈঠক হয়। বৈঠকে এমডি মহোদয় উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বলা হয়, যাত্রীসহ গাড়ি ছাড়ার পর যেখানে নামাজের সময় হবে সেখানে নামাজের বিরতি বাধ্যতামূলক। যাত্রীসহ গাড়ির স্টাফ নামাজ আদায় করবেন। তবে ওই বৈঠকের নির্দেশনা মৌখিক হলেও তা ছিল খুবই কড়াকড়ি। কিন্তু এখন সেই নির্দেশনা যাতে কোনোভাবে অমান্য না হয় সেজন্য লিখিত নোটিশ দেয়া হয়েছে। ৯ অক্টোবর থেকে এ আদেশ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। যা সড়ক পরিবহন সেক্টরে একটি ইতিবাচক ও সাহসী সিদ্ধান্ত।
‘নামাজ’ মুসলিমদের জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় ইবাদত হলেও যাত্রীদের জন্য সে সুযোগ এতোদিন ছিল না। বিশেষ করে সড়ক পরিহবন সেক্টরে। কিন্তু কিং ফিশার নামে একটি পরিবহন সংস্থা সম্প্রতি যাত্রীদের নামাজ আদায়ের সুযোগের জন্য যাত্রাবিরতি বাধ্যতামূলক করা একটি ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। ইতোমধ্যেই এনা পরিবহন নামের একটি পরিবহন সংস্থা যাত্রাদের জন্য একই সুযোগ দিয়েছে। আমরা আশা করবো অন্যরাও যাত্রীদের জন্য একই সুবিধা নিশ্চিত করে দেশের সংখ্যগরিষ্ঠ মানুষের আবেগ, অনুভূতি ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করবেন।