ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
ব্রেকিং নিউজ

১৭ অক্টোবর ২০২১, ০৬:১০

আইনের শাসনের বৈশ্বিক সূচক

21289_LLLL.jpg
বৈশি^ক আইনের শাসনের সূচকে আমাদের অবস্থান বরাবরই হতাশাব্যঞ্জক।  এই শুভবৃত্ত থেকে কোনভাবেই বেড়িয়ে আসতে পারছি না বরং যতই দিন যাচ্ছে ততই পরিস্থিতির অবনতিই হচ্ছে। সে ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালে আইনের শাসনের সূচকে ১৩৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ ১২৪তম অবস্থানে এসে ঠেকেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্ট (ডবিøউজেপি) সম্প্রতি বৈশ্বিক আইনের শাসন সূচক প্রকাশ করেছে। এই সংস্থার সাবেক সভাপতিদের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেডেলিন অলব্রাইট ও কলিন পাওয়েলের মতো ব্যক্তিরা রয়েছেন। সংস্থাটি ২০০৬ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আইনের শাসনের এই সূচক প্রকাশ করে আসছে। এর আগে গত বছরের মার্চে প্রকাশিত সূচকে বাংলাদেশ ১২৮টি দেশের মধ্যে ১২২তম অবস্থানে ছিল।
সাতটি বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আইনের শাসনের এই সূচক করা হয়েছে। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সীমাবদ্ধতার দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ১২৫তম, নিয়ন্ত্রণমূলক ক্ষমতার প্রয়োগের দিক থেকে ১২২তম, ফৌজদারি বিচারের দিক থেকে ১১৭তম, দেওয়ানি বিচার পাওয়ার দিক থেকে ১২৯তম, দুর্নীতি না হওয়ার দিক থেকে ১১২তম, জননিরাপত্তায় ১১১তম এবং সরকারি তথ্য প্রকাশের দিক থেকে ১০২তম অবস্থানে রয়েছে। এই বিষয়গুলোর পাঁচটিতেই বাংলাদেশের অবস্থার অবনতি হয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১ লাখ ৩৮ হাজার খানা এবং ৪ হাজার ২০০ জন আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞের মতামত নিয়ে এই সূচক করা হয়েছে। বাংলাদেশের এক হাজার খানা (পরিবার) এবং আইন পেশাসংশ্লিষ্ট ১৭ জনের মতামত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আইনের শাসনে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে নেপাল (৭০তম)। এরপরেই শ্রীলঙ্কা (৭৬) ও ভারত (৭৯)। খারাপ অবস্থানের দিক দিয়ে বাংলাদেশের পরেই রয়েছে পাকিস্তান (১৩০) ও আফগানিস্তান (১৩৪তম)। তবে সামগ্রিকভাবে আইনের শাসনের দিক দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার ছয়টি দেশেরই অবস্থার অবনতি হয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভুটান ও মালদ্বীপের বিষয়ে প্রতিবেদনে কিছু বলা হয়নি।
ডবিøউজেপি সূচকে বাংলাদেশের পরেই রয়েছে উগান্ডা, হন্ডুরাস, জিম্বাবুয়ে ও মিয়ানমার। বিশ্বে করোনা সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো এই প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলো। সেখানে দেখা গেছে, বেশির ভাগ দেশেই আইনের শাসনের অবনতি হয়েছে। আইনের শাসন সূচকে সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে ডেনমার্ক, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড। অপর দিকে আইনের শাসনের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা কঙ্গো, কম্বোডিয়া ও ভেনেজুয়েলায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সূচকে যেসব দেশ রয়েছে, সেগুলোর মধ্যে ৭৪ দশমিক ২ শতাংশ দেশেই করোনাকালে আইনের শাসনের অবনতি হয়েছে। এসব দেশে বিশ্বের প্রায় ৮৫ শতাংশ মানুষের বসবাস। এসব দেশের মানুষের সংখ্যা ৬৫০ কোটি।
করোনাকালে আইনের শাসনে সবচেয়ে বেশি উন্নতি হয়েছে উজবেকিস্তানে। সবচেয়ে বেশি অবনতি হওয়া দেশগুলোর মধ্যে মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, নিকারাগুয়া, চেক রিপাবলিক ও আর্জন্টিনা। ডবিøউজেপির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিল নিউকম বলেন, ‘এবারের আইনের শাসন সূচকে এত বেশিসংখ্যক দেশে নেতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে যে তা আমাদের সবার জন্য একটি সতর্কবার্তা।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিটি দেশের মানুষের ন্যায়বিচার, সুযোগ প্রাপ্তি ও শান্তির মৌলিক ভিত্তি হলো আইনের শাসন। বৈশ্বিক মহামারি থেকে পুনরুদ্ধারের যে সময় আমাদের সামনে অপেক্ষা করছে, সেখানে এই মৌলিক ভিত্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।’
সাম্য, গণতন্ত্র, সামাজিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাই ছিল আমাদের স্বাধীনতার মূল চেতনা। কিন্তু স্বাধীনতার ৫ দশক পরও এসব ক্ষেত্রে আমাদের প্রাপ্তি মোটেই কাক্সিক্ষত নয়। বিশেষ করে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের বিচ্যুতিই আমাদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে আইনের শাসনের ওপর। যার প্রতিফলন ঘটেছে আইনের শাসনের বৈশি^ক সাম্প্রতিক সূচকে। তাই দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থেই আমাদের দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে সকল প্রতিবন্ধকতা দুর করতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অন্যথায় স্বাধীনতার স্বপ্নগুলো অধরায় থেকে যাবে।