ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
ব্রেকিং নিউজ

১৯ অক্টোবর ২০২১, ০৮:১০

আবারও চোট সয়াবিনের ওপর

21359_OIl.jpg
অস্থিতিশীল বাজার পরিস্থিতির জন্য অসাধু ব্যবসায়ী ও বাজার সিÐিকেটকে দায়ি করা হলেও সয়াবিন তেলের ক্ষেত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা বলেই মনে হচ্ছে। কারণ, ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষাপটে সরকারই দফায় দফায় তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে অনুমোদন দিয়ে এসেছে এবং তা এখনও অব্যাহত আছে। সে ধারাবাহিকতায় আবারও খুচরা বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রাথমিকভাবে অনুমোদন পেয়েছে। খোলা ও বোতলজাত-উভয় ধরনের সয়াবিনের দাম প্রতি লিটারে ৭ টাকা বাড়ানোর একটি প্রস্তাব সম্প্রতি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে চূড়ান্ত হয়েছে। যা কেউই যৌক্তিক ও কাক্সিক্ষত মনে করছেন না।
এর আগে গত ২৫ এপ্রিল প্রতি লিটারে সয়াবিনের দাম ৫ টাকা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। তার এক সপ্তাহ পর গত ৩ মে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ৩ টাকা কমিয়ে ২ টাকায় নামিয়ে আনে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে ঈদ পর্যন্ত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ২ টাকা বৃদ্ধিতে সম্মত হয়েছিল ব্যবসায়িরা। কিন্তু ঈদ শেষে ব্যবসায়ীরা আবার মূল্যবৃদ্ধির ব্যাপারে সক্রিয় হয়ে ওঠেন এবং সরকারও মূল্যবৃদ্ধিতে সম্মতি দেয়। যা সাধারণ মানুষের জন্য হয়ে ওঠে অস্বস্তিকর।
মূলত, দেশে দফায় দফায় বেড়েছে সয়াবিনসহ ভোজ্যতেলের দাম। এতে কোন নিয়ম-নীতি বা মানদÐ অনুসরণ করা হয়নি। কিন্তু এতেও ব্যবসায়ীরা সন্তষ্ট থাকতে পারেন নি বরং নতুন করে আরও বাড়ানোর জন্য সক্রিয় থেকেছেন সব সময়। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয়েছে ব্যবসায়ীদের ভোজ্যতেলর মূল্যবৃদ্ধি ছাড়া কোন কাজ নেই। সরকারও মূল্যবৃদ্ধিতে অনুমোদন দেয়ার জন্য একপায়ে খাড়া। যা সরকারের এক ধরনের দায়িত্বহীনতা বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, গত ১৭ অক্টোবর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ভোজ্যতেল ও চিনি ব্যবসায়ীদের এক বৈঠকে একটি প্রস্তাব তোলা হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের উত্থাপিত দাম বাড়ানোর প্রস্তাবে প্রাথমিক সম্মতি দেওয়া হয়েছে বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বড় ধরনের প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বাজারে এক লিটার খোলা সয়াবিন তেলের দাম নির্ধারণ করা ১৩৬ টাকা। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিনের দাম পড়বে ১৬০ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতল কিনতে হবে ৭৬০ টাকায়।
এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর ভোজ্যতেলের প্রতি লিটারে ৪ টাকা দাম বাড়ানো হয়। এরপর থেকে এক লিটারের বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৫৩ টাকায় ও পাঁচ লিটারের ৭২৮ টাকায় কিনতে হচ্ছে। আর প্রতি লিটার খোলা সয়াবিনের দাম পড়ছে ১২৯ টাকা। বারবার দাম বাড়ানোর জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধির কথা বলা হলেও তা কারো কাছেই গ্রহণযোগ্য হচ্ছে না। একথা ঠিক যে, আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু তা অভ্যন্তরীণ বাজারে বৃদ্ধির মোটেই সমান্তরাল নয় বরং সংশ্লিষ্টরা বিষয়টিকে অজুহাত হিসাবেই দাড় করাচ্ছেন। যার সাথে বাস্তবতার মিল যৎসামান্যই।
এমনিতেই করোনা মহামারীর কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতা একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ে নেমে এসেছে। তার সাথে যুক্ত হয়েছে দ্রব্যমূল্যের আগামহীন উর্দ্ধগতি। বিশেষ করে ভোজ্যতেল ও চাল অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। এমতাবস্থায় ভোজ্যতেলের দামসহ নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা না গেলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। যার দায় সরকার কখনোই এড়াতে পারে না।