ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
ব্রেকিং নিউজ

সৈয়দ মাসুদ মোস্তফা

২১ অক্টোবর ২০২১, ১৫:১০

চীন-মার্কিন উত্তেজনা

21452_চীন-মার্কিন.jpg
তাইয়ান ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীন আবারো মুখোমুখি অবস্থানে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে, চীনকে মোকাবিলায় তাইওয়ানের সেনাদের গোপনে প্রশিক্ষণও দিচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। শুধু তাই নয়, চীনের গোয়েন্দা তৎপরতা ঠেকাতে নতুন শাখা খোলার ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ)। চলমান এই উত্তেজনার মধ্যেই চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং তাইয়ানকে নিজ দেশের অঙ্গীভূত করার ঘোষণা দিয়ে পরিস্থিতিকে আরো উত্তপ্ত করে তুলেছেন।

এক বছরের বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা তাইওয়ানের সেনাদের সামরিক প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল পত্রিকা সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। পত্রিকাটি বলছে, তাইওয়ানের স্থল ও নৌ সেনাদের প্রশিক্ষণের এই কাজে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযান বাহিনী ও মেরিন সেনারা জড়িত।

এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, চীনকে মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ তৎপর হয়ে উঠেছে। ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাইওয়ান ইস্যুতে চীনকে মোকাবিলা করতে আটঘাট বেঁধেই নেমেছে যুক্তরাষ্ট্র।

চীনকে মোকাবেলা করার জন্য সিআইএর নতুন শাখার নাম দেয়া হয়েছে ‘চীনা মিশন সেন্টার’ (সিএমসি)। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সিআইএ জানিয়েছে, মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার মিশন এলাকায় চীন যেসব হুমকি সৃষ্টি করছে, সেসব মোকাবিলা করবে সিএমসি।

সিআইএ প্রধান বলেন, ‘একুশ শতকে আমরা যেভাবে বৈশ্বিক ভূরাজনীতির হুমকি ও চীনা সরকারের ক্রমবর্ধমান শত্রুতাপূর্ণ আচরণ মোকাবিলা করছি, সিএমসি সেই কাজকে আরো শক্তিশালী করবে।’

তাইওয়ানের সেনাদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার বিষয়ে অবগত আছেন, এমন দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীগুলোর কয়েকজন সদস্য ভাগ ভাগ হয়ে তাইওয়ানে গিয়ে এসব প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছেন। যদিও ঠিক কত দিন ধরে এই প্রশিক্ষণ চলছে, সে বিষয়ে কিছু বলতে রাজি হননি তাঁরা। তবে এই প্রশিক্ষণ জো বাইডেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগে থেকেই চলে আসছে বলে তাঁরা ইঙ্গিত দিয়েছেন।

এদিকে মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জ্যাক সুলিভান বিবিসিকে বলেছেন, তাইওয়ান ইস্যুতে চীনের সাম্প্রতিক তৎপরতায় বাইডেন প্রশাসন গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাইওয়ান নিজেদের স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে দাবি করে। কিন্তু তাইওয়ানকে নিজেদের ভূখন্ড মনে করে চীন। তাই জোরপূর্বক তাইওয়ানের নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় তারা।

চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ইয়াং জিইচির সঙ্গে সাক্ষাতের পরে ব্রাসেলসে বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতা জেমস ল্যান্ডেলকে সুলভান বলেন, ‘আমরা রুখে দাঁড়াব, প্রতিবাদ করব। সেটা নিজেদের মধ্যে এবং প্রকাশ্যে দুইভাবেই। বিশেষ করে যখন কোনো অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হয়।’

তাইওয়ানের প্রতিরক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র সেনা মোতায়েন করতে তৈরি কি না, এমন প্রশ্নে জবাবে সুলভান বলেন, ‘শুধু এতটুকু বলতে চাই, এমন দিন যেন না আসে, সে জন্যই আগাম পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি।’ এদিকে তাইওয়ানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে আসছে চীন। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনটির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি তাইওয়ানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। অন্যদিকে প্রতিবেদনটির সত্যতা নিশ্চিত বা নাকচ করেনি যুক্তরাষ্ট্র।

স্নায়ুযুদ্ধের অবসানের পর বিশ্বশক্তি এক কেন্দ্রে কেন্দ্রীভূত হলেও এ অবস্থা বেশি দিন স্থায়ী হয়নি বরং চীন বিকল্প পরাশক্তি হিসাবে আবির্ভূত হওয়ার চেষ্টা করছে দীর্ঘদিন থেকেই। মূলত, চীন বর্তমান বিশ্বে উদীয়মান অর্থনৈতিক পরাশক্তি। একই সাথে তারা সামারিক শক্তিতে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলেছে। যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর জন্য  মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দেখা দিয়েছে। ফলে তারা বিভিন্ন ইস্যুতে  চীনকে মোকাবেলা করতে একাট্টা।

সে ধারাবাহিকতায় তাইওয়ান ইস্যুকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। কিন্তু এই উত্তেজনার পরিণাম কী তা এখনো বলার সময় না হলেও চীনকে মোকাবেলা করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ দেশটির মিত্রদের জন্য খুব একটা সহজসাধ্য হবে বলে মনে হয় না। ফলে আগামী  দিনে পরিস্থিতি আরো জটিল হওয়ার আশঙ্কাই করছেন আন্তর্জাতিক বোদ্ধামহল।