ENGLISH  |  ARABIC  |  NNBDJOBS  |  BLOG
ব্রেকিং নিউজ

২২ অক্টোবর ২০২১, ২১:১০

আকাশের তারকারাজির মধ্যে পূর্ণিমার চাঁদ!

21489_461132.jpg
"আল কোরআন" মুসলিম মিল্লাতের স্বর্ণালি সম্পদ। যা দীপ্তি ছড়ায় যুগ যুগান্তর। এ মহাগ্রন্থ আমাদের প্রাণোচ্ছল উদ্দীপনায় উজ্জীবিত করে। এ কিতাব আমাদের স্ফুলিংগের গতি দেয়। প্রেরণার অফুরন্ত উৎস হয়ে সামনে চলার অপ্রতিরোধ্য শক্তি যোগায়। এ কিতাবের সাথে বেয়াদবি করলে বেদনায় হৃদয় দুমড়ে মুচড়ে অশ্রুসিক্ত হয়ে উঠে।

এ সেই কিতাব, যাতে কোনো সন্দেহ নেই। যা সর্বশেষ ঐশী গ্রন্থ। আল্লাহ তায়ালা কোরআনকে কিয়ামত পর্যন্ত আগত মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক হিসেবে মনোনীত করেছেন। পৃথিবীর শেষদিন পর্যন্ত রক্ষার অঙ্গীকার করে আল্লাহ পাকের ঘোষণাঃ নিশ্চয়ই আমি কোরআন অবতীর্ণ করেছি এবং অবশ্যই আমিই তার রক্ষক। (সুরা হিজর- ৯)

যারা হেদায়াত প্রত্যাশা করে, এ কিতাব বুঝে বুঝে তিলাওয়াত করে, গভীরভাবে চিন্তা করে এবং হৃদয়ংগম করে, সে অনুযায়ী আমল করে, আল্লাহ তায়ালা তাদের জন্য এ কিতাব সহজ করে দিয়ে বলেন-
وَلَقَدْ يَسَّرْنَا الْقُرْآَنَ لِلذِّكْرِ فَهَلْ مِنْ مُدَّكِرٍ (القمر:١٧)
এবং আমি কোরআনকে সহজ করে দিয়েছি বোঝা ও উপদেশ গ্রহণের জন্য। কোন চিন্তাশীল উপদেশ গ্রহণকারী আছে কি? (সূরা কমর- ১৭)

কোরআনের হাফেজরা সমাজের সবচেয়ে সম্মানিত ব্যক্তি, নিজের সিনায় কোরআন রাখা এ মানুষগুলো আল্লাহর কাছে অনেক বেশি মর্যাদার। সবচেয়ে ধনী, তারা আল্লাহ প্রিয় বন্ধু।

হাফেজরা আল্লাহর কোরআন সংরক্ষণ প্রক্রিয়ার অন্যতম অংশ, তাই হাফেজদের মর্যাদা অনন্য। তারা আকাশের তারকারাজির মধ্যে পূর্ণিমার চাঁদ।

হযরত উসমান (রাঃ) থেকে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেছেন, তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সবচেয়ে উত্তম যে কুরআন শিখে এবং অন্যকে শিখায়। (বুখারী- ৫০২৭)

হজরত আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসুল (সঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কুরআন পাঠ করেছে এবং হেফজ করে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েছে এবং হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম জেনেছে। আল্লাহ তায়ালা তাকে বেহেশতে দাখিল করবেন এবং তার পরিবারস্থ দশজন লোকের মুক্তির সুপারিশ কবুল করবেন যাদের উপর জাহান্নাম অবধারিত ছিল। (তিরমিজি- ২৯০৫, ইবনে মাজাহ- ২১৬ )

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, তোমরা কোরআন তিলাওয়াত করো। কেননা তা কিয়ামতের দিন তার ধারকের জন্য সুপারিশকারী হবে। (মুসলিম- ৩০২)

আবদুল্লাহ ইবনু আমর (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, কোরআন অধ্যয়নকারীকে বলা হবে, কোরআন পাঠ করতে করতে ওপরে উঠতে থাকো। তুমি দুনিয়াতে যেভাবে ধীরে-সুস্থে পাঠ করতে, সেভাবে পাঠ করো। কেননা তোমার তিলাওয়াতের শেষ আয়াতেই (জান্নাতে) তোমার বাসস্থান হবে। (আবু দাউদ- ১৪৬৪)

কোরআন ধারণের পর মানুষ যখন আমল করে তখনই সে চূড়ান্ত সাফল্য লাভ করে।

ইরশাদ হচ্ছে, নিশ্চয়ই এই কোরআন পথপ্রদর্শন করে সেই পথের দিকে, যা সুদৃঢ় এবং সৎকর্মপরায়ণ মুমিনদের সুসংবাদ দেয় যে তাদের জন্য আছে মহাপুরস্কার। (সুরা বনি ইসরাঈল- ৯)

কোরআনকে প্রতিপক্ষ বানাবেন না, তাকে জীবনবিধান হিসেবে গ্রহণ করুন।

কোরআন দুনিয়া ও আখেরাতে মুক্তির দিশারী, আমাদের প্রিয় বন্ধু।

মহানবী (সাঃ) বলেন, কোরআন সাক্ষী হবে তোমার পক্ষে অথবা বিপক্ষে। (মুসলিম- ২২১)

আল্লাহ তায়ালা, আমাদেরকে কোরআনের ধারক-বাহক হিসেবে কবুল করুন।

লেখক: মুহা. রুহুল আমিন